
নিজস্ব প্রতিবেদক, ৮ এপ্রিল ২০২৬: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ডিএমসিএইচ) আজ বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের মধ্যে কথা কাটাকাটির জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়।
ঘটনার সূত্রপাত: হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং অমর একুশে হলের আবাসিক ছাত্র সানিম (২৩) বিকেলে চিকিৎসার জন্য জরুরি বিভাগে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে একটি প্রেসক্রিপশন দেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ হাসপাতালে না থাকায় বাইরে থেকে কিনে আনতে বলেন। কিছুক্ষণ পর সানিম আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে ফিরে আসেন এবং অভিযোগ করেন যে, চিকিৎসকের লিখে দেওয়া ওষুধ বাইরের দোকানেও পাওয়া যাচ্ছে না। এই নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।
সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া: প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাকবিতণ্ডা থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী উভয় পক্ষের অন্তত ১০-১২ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে অমর একুশে হল ও শহীদুল্লাহ হলের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী হাসপাতালের সামনে জড়ো হন।
নিরাপত্তা ও সেবা বন্ধ: হামলার প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তার দাবিতে বিকেল ৫:২২ মিনিট থেকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এর ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য: ডিএমসিএইচ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঢাবি প্রক্টর ড. সাইফুদ্দিন আহমেদ ঘটনাস্থলে এসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছেন। উভয় পক্ষই এই ঘটনার জন্য একে অপরকে দায়ী করছে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।